বাংলাদেশে অনেকেই নতুন ভোটার হিসেবে আবেদন করার পরও এখনো তাদের ভোটার আইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড হাতে পাননি। আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এনআইডি কার্ড হারিয়ে যাওয়ার কারণে পুনরায় আবেদন করতে হয়। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। যদি আপনার এনআইডি কার্ড প্রস্তুত হয়ে থাকে, তাহলে খুব সহজেই ঘরে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে আপনার ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।
আমি ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করার সময় ব্যক্তিগতভাবে এমন অনেক মানুষের সাথে কাজ করেছি যারা বিভিন্ন কারণে তাদের ভোটার আইডি কার্ড সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তেন। অনেকেই কার্ড হারিয়ে ফেলতেন এবং পরে পুনরায় ইস্যুর জন্য আবেদন করতেন। আবার নতুন ভোটার হওয়ার পর অনেকে মূল কার্ড পাওয়ার আগেই অনলাইন কপি বের করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসতেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি, অনলাইন থেকে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার এই পদ্ধতিটি অনেক মানুষের জন্য খুবই কার্যকর এবং সহজ একটি সমাধান।
এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে দেখানো হবে কীভাবে খুব সহজ নিয়মে অনলাইন থেকে আপনার এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করবেন।
কখন অনলাইনে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা যাবে
নিচের তিনটি ক্ষেত্রে আপনি অনলাইন থেকে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন
তবে যদি আপনার এনআইডি কার্ড হারিয়ে যায় কিন্তু আপনি নতুন করে আবেদন না করেন, তাহলে অনলাইন থেকে সরাসরি ডাউনলোড করা সম্ভব হবে না।
অনলাইনে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার ধাপ
১. ব্রাউজারে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে যেকোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করুন। এরপর সার্চ বারে লিখুন:
তারপর সার্চ করে প্রথম যে সরকারি সাইটটি আসবে সেটিতে প্রবেশ করুন।
২. নতুন অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করুন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর “একাউন্ট নেই? রেজিস্টার করুন” অপশনে ক্লিক করুন।
এখানে আপনাকে কিছু তথ্য দিতে হবে—
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অথবা
- ফর্ম নম্বর
আপনি যখন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন তখন যে রিসিট পেয়েছিলেন সেখানে একটি ফর্ম নম্বর থাকে। সেটি এখানে ব্যবহার করতে পারবেন।
যদি আগে এনআইডি কার্ড পেয়ে থাকেন কিন্তু হারিয়ে ফেলেন এবং পুনরায় আবেদন করে থাকেন, তাহলে এনআইডি নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
এরপর আপনার জন্ম তারিখ প্রদান করুন।
৩. নিরাপত্তা কোড পূরণ করুন
স্ক্রিনে একটি ক্যাপচা কোড দেখাবে। ছবিতে প্রদর্শিত কোডটি ঠিকভাবে লিখে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
৪. ঠিকানা সম্পর্কিত তথ্য দিন
এরপর আপনাকে কিছু ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে, যেমন—
- বিভাগ
- জেলা
- বর্তমান ঠিকানা
- স্থায়ী ঠিকানা
যে তথ্যগুলো আপনি এনআইডি আবেদনের সময় দিয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই এখানে পূরণ করতে হবে। সব তথ্য দেওয়ার পর পরবর্তী অপশনে ক্লিক করুন।
৫. মোবাইল নম্বর যাচাই করুন
এখন আপনার একটি মোবাইল নম্বর দেখানো হবে।
- যদি নম্বরটি সঠিক থাকে, তাহলে বার্তা অপশনে ক্লিক করুন।
- যদি ভুল থাকে, তাহলে মোবাইল পরিবর্তন করুন অপশনে গিয়ে নতুন নম্বর যোগ করতে পারবেন।
এরপর আপনার ফোনে একটি ভেরিফিকেশন কোড (OTP) পাঠানো হবে। সেই কোডটি নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে বহাল অপশনে ক্লিক করুন।
৬. NID Wallet অ্যাপ ইনস্টল করুন
এরপর আপনাকে NID Wallet অ্যাপ ব্যবহার করে ফেস ভেরিফিকেশন করতে বলা হবে।
এজন্য আপনাকে—
- Google Play Store এ যেতে হবে
- NID Wallet অ্যাপটি সার্চ করে ইনস্টল করতে হবে
অ্যাপটি ইনস্টল করার পর Tap to Open NID Wallet অপশনে ক্লিক করুন।
৭. ফেস স্ক্যান সম্পন্ন করুন
অ্যাপ চালু হলে নিচে Agree and Continue অপশনে ক্লিক করুন।
এরপর Start Face Scan নির্বাচন করে আপনার মুখ স্ক্যান করতে হবে। কখনো আপনাকে মাথা ডানে-বামে ঘোরাতে বা চোখের পাতা ফেলতে বলা হতে পারে।
ফেস স্ক্যান সম্পন্ন হলে যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হবে।
৮. এনআইডি প্রোফাইল দেখতে পারবেন
ফেস ভেরিফিকেশন সফল হলে আপনার সামনে একটি ইন্টারফেস আসবে যেখানে দেখা যাবে—
- আপনার নাম
- এনআইডি নম্বর
- ঠিকানা
- প্রোফাইল তথ্য
- স্মার্ট এনআইডি কার্ড স্ট্যাটাস
- ডাউনলোড অপশন
৯. এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করুন
এখন Download অপশনে ক্লিক করলে আপনার এনআইডি কার্ড অনলাইনে দেখতে পারবেন।
এটি সহজেই ডাউনলোড করে মোবাইলে সেভ করে রাখতে পারবেন।
প্রয়োজনে এটি প্রিন্ট করে লেমিনেশন করে ব্যবহার করা যাবে যতদিন পর্যন্ত আপনি মূল স্মার্ট কার্ড না পাচ্ছেন।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
আমি ব্যক্তিগতভাবে ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করার সময় অনেক মানুষের বিভিন্ন অনলাইন সেবা নিয়ে কাজ করেছি। বিশেষ করে অনেকেই তাদের ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে না পেরে ইউনিয়ন পরিষদে আসতেন।
সেই সময় আমি অনেক মানুষের ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করে দিয়েছি।
আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বেশিরভাগ মানুষই শুধু সঠিক নিয়ম না জানার কারণে নিজেরাই এই কাজটি করতে পারেন না। অথচ একটু সঠিক তথ্য জানলেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে খুব সহজেই ঘরে বসে NID কার্ড ডাউনলোড করা সম্ভব।
তাই উপরে দেখানো পদ্ধতিটি অনুসরণ করলে আপনি নিজেই খুব সহজে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।
পুরাতন NID কার্ড হারিয়ে গেলে কী করবেন
অনেকেই অনেক আগে ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখন তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে।
সেই ক্ষেত্রে অনেক সময় সরাসরি ডাউনলোড করা যায় না।
এই সমস্যার সমাধান করতে হলে আপনাকে Reissue অপশন ব্যবহার করে নতুন করে NID কার্ড ইস্যু করতে হবে।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
হ্যাঁ। আপনার কাছে যদি ভোটার স্লিপ থাকে তাহলে সেই স্লিপ নাম্বার ব্যবহার করে খুব সহজেই অনলাইনে NID কার্ড ডাউনলোড করা যায়।
হ্যাঁ। আপনার স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট থাকলে মোবাইল দিয়েই জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করা যায়।
NID Wallet অ্যাপ ব্যবহার করে ফেস স্ক্যান করতে হয় যাতে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
হ্যাঁ। ডাউনলোড করা PDF কপি প্রিন্ট করে লেমিনেশন করলে সেটি পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
সঠিক তথ্য থাকলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করা সম্ভব।
শেষ কথা
আমার ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করার সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেক মানুষ শুধুমাত্র সঠিক তথ্য না জানার কারণে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় ও ভোগান্তির শিকার হন। অথচ অনলাইন পদ্ধতিটি জানলে খুব সহজেই নিজের এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা সম্ভব।
তাই আপনি যদি নতুন ভোটার হয়ে থাকেন, অথবা কার্ড হারিয়ে পুনরায় আবেদন করে থাকেন, তাহলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ঘরে বসেই আপনার এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। আশা করি এই গাইডটি আপনার জন্য একটি কার্যকর ও সহায়ক মাধ্যম হবে।


