বাংলাদেশে দরিদ্র, বেকার এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড (Family Card) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি ঘোষণার অনুযায়ী, দেশের প্রায় পাঁচ কোটি পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসবে।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই, এবং সরকারের লক্ষ্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের হাতে প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ পৌঁছানো। এটি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আমরা হয়তো অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে থাকি কিভাবে এটি পেতে পারি বিভিন্ন তথ্য বিভিন্ন সময় ভুল তথ্যের কারণে আমরা এটি হয়ে থাকি তাই এই আর্টিকেলটি পড়ুন এবং হারানো মুক্ত থাকুন।
ফ্যামিলি কার্ড কী?

ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি ডেটাবেসভিত্তিক সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যা দেশের দরিদ্র এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।
এই কার্ডের আওতায়:
- মাসিক নগদ অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যের হাতে পৌঁছানো হবে
- সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে (চাল, ডাল, তেল, লবণ ইত্যাদি)
- পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও নিরাপদ করা হবে
- সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক ভাতার তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ অনেক বেশি হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা
১. দ্বিগুণ আর্থিক ভাতা
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় বেকার ও দরিদ্র পরিবারগুলো প্রচলিত বয়স্ক বা বিধবা ভাতার তুলনায় দ্বিগুণ অর্থ সহায়তা পাবেন।
২. নারীর ক্ষমতায়ন
সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের হাতে পৌঁছানো হবে। এতে নারীর আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
৩. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ
কার্ডধারী পরিবারগুলো চাল, ডাল, তেল, লবণসহ অন্যান্য প্রাথমিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সুলভ মূল্যে বা বিনামূল্যে পাবে।
৪. স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়া
- মাল্টিলেভেল স্ক্রিনিং বা তিন স্তরের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি থাকবে
- কোনো ধরনের পিক অ্যান্ড চুজ সুবিধা থাকবে না
- প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার নিশ্চিতভাবে উপকৃত হবে
কারা ফ্যামিলি কার্ড পেতে পারবেন?
ফ্যামিলি কার্ড মূলত তাদের জন্য, যারা অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ:
- দরিদ্র পরিবার
- বেকার পরিবার
- নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার
সরকারের চূড়ান্ত যাচাই ও স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগী তালিকা তৈরি করা হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করা হবে:
ধাপ ১: কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও মধ্যস্থতা কমানো যায়।
ধাপ ২: পাইলট প্রকল্প
প্রাথমিকভাবে মাদারীপুরের শিবচরসহ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প শুরু হবে।
ধাপ ৩: আবেদন ফর্ম সংগ্রহ
- স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে।
- প্রতি পরিবারে শুধুমাত্র একটি ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে।
ধাপ ৪: অনলাইনে আবেদন
সরকার একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। চালু হলে:
- NID ব্যবহার করে ঘরে বসেই আবেদন করা যাবে
- মোবাইল নম্বরে OTP বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে
আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
- সচল মোবাইল নম্বর
- পরিবারের তথ্য
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
| ক্রমিক | প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|---|
| ১ | ফ্যামিলি কার্ড কি? | এটি দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড। |
| ২ | কারা আবেদন করতে পারবেন? | দরিদ্র, বেকার ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। |
| ৩ | আবেদন করতে কি লাগে? | NID, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, সচল মোবাইল নম্বর। |
| ৪ | ভাতার টাকা কে পাবেন? | পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্য। |
| ৫ | ভাতার পরিমাণ কত? | প্রচলিত ভাতার তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ। |
| ৬ | আবেদন শুরু কবে? | পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত শুরু হবে। |
| ৭ | অনলাইনে আবেদন করা যাবে কি? | হ্যাঁ, পোর্টাল চালু হলে। |
| ৮ | একটি পরিবারে কয়টি কার্ড? | একটি মাত্র। |
| ৯ | কোথায় যোগাযোগ করতে হবে? | ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয়। |
| ১০ | টাকা কিভাবে হাতে আসবে? | মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। |
| ১১ | কার্ড করতে কি টাকা লাগে? | না, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। |
| ১২ | পাইলট প্রকল্প কোথায়? | নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকা। |
| ১৩ | অন্য ভাতা পেলেও কি এটি পাওয়া যাবে? | সাধারণত এক পরিবারে এক ধরনের সুবিধা। |
| ১৪ | NID না থাকলে কি হবে? | NID বাধ্যতামূলক; বিকল্প জন্ম নিবন্ধন বিবেচনা হতে পারে। |
| ১৫ | কার্ড কতদিন মেয়াদী? | দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি হিসেবে। |
সতর্কতা
- কোনো ব্যক্তি বা দালালকে টাকা দেবেন না
- ভুয়া লিঙ্কে আবেদন করবেন না
- সরকারি ঘোষণার বাইরে তথ্যের উপর নির্ভর করবেন না
উপসংহার
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখো পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। বিশেষভাবে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
প্রস্তুত করেছেন: এসআই রাজ, এটিএন নিউজ, ঢাকা



