গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কিভাবে একটি সম্পূর্ণ সঠিক এবং নিয়ম মেনে ভোট দিতে হয়। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে এই বিষয়ে কিছুটা দ্বিধা বা অনিশ্চয়তা দেখা যায়। তাই এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদেরকে জানানো হবে কিভাবে সহজ, সুশৃঙ্খল এবং সঠিকভাবে ভোট প্রদান করবেন। এখানে ভোট দেওয়ার নিয়ম, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে প্রত্যেকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
ভোটের দিন কেন্দ্রে যাওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা জরুরি। এতে আপনার সময় বাঁচবে এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানি এড়ানো যাবে।
ভোটার তথ্য জেনে নিন:
আপনার ভোটার নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর আগে থেকেই সংগ্রহ করুন।
সহায়তা নম্বর ১০৫-এ কল করুন:
আপনার ভোটার নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর আগে থেকেই সংগ্রহ করুন।
সহায়তা নম্বর ১০৫-এ কল করুন:
কোনো তথ্য জানতে নির্বাচন কমিশনের টোল-ফ্রি ১০৫ নম্বরে কল করতে পারেন।
ভোটার স্লিপ সঙ্গে রাখুন:
ভোটার নম্বর একটি কাগজে লিখে রাখুন অথবা ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করে সঙ্গে নিন। এতে কেন্দ্রে দ্রুত আপনার তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।
পরিচয়পত্র রাখা ভালো:
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সঙ্গে থাকলে শনাক্তকরণ আরও সহজ হয়।
সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছান:
ভোট গ্রহণ সাধারণত সকাল ৭:৩০টা থেকে বিকেল ৪:৩০টা পর্যন্ত চলে। ভিড় এড়াতে একটু আগে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ধাপসমূহ
ধাপ ১: ভোটার নম্বর বা ভোটার স্লিপ সাথে রাখুন
ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভোটার নম্বরটি অথবা ভোটার স্লিপটি সংরক্ষণ করে সাথে রাখুন।
ধাপ ২: নির্ধারিত সময়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হন
ভোটের দিন সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ এর মধ্যে আপনার নির্ধারিত ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হন।
ধাপ ৩: লাইনে দাঁড়ান
অন্যান্য ভোটারদের সাথে লাইনে দাঁড়ান এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।
ধাপ ৪: ভোটার হিসেবে শনাক্তকরণ
আপনার পালা এলে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা আপনাকে ভোটার হিসেবে শনাক্ত করবেন।
ধাপ ৫: অমোচনীয় কালির চিহ্ন
শনাক্তকরণ শেষ হলে আপনার বাম হাতের বুড়ো আঙুলে অমোচনীয় কালির চিহ্ন দেওয়া হবে।
ধাপ ৬: ব্যালট পেপার গ্রহণ
শনাক্তকরণ সম্পন্ন হলে আপনাকে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে—
- সাদা ব্যালট পেপার: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য
- গোলাপি ব্যালট পেপার: গণভোটের জন্য
ব্যালট নেওয়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত করুন—
অফিসিয়াল সিল রয়েছে
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর আছে
কোনো ত্রুটি চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে নতুন ব্যালট নিন।
ধাপ ৭: অফিসিয়াল সিল ও স্বাক্ষর যাচাই
ব্যালট পেপার গ্রহণ করার আগে অবশ্যই দেখুন এতে অফিসিয়াল সিল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর আছে কিনা।
ধাপ ৮: গোপন কক্ষে ভোট দিন
ভোট একটি সম্পূর্ণ গোপন প্রক্রিয়া, তাই ব্যালট পেপার নিয়ে সরাসরি গোপন বুথে প্রবেশ করুন।
- আপনার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ঘরে নির্ধারিত সিল দিন।
- সিল দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন, যেন কালি অন্য কোনো প্রতীকে না লাগে।
মনে রাখবেন, একাধিক ঘরে সিল দিলে ব্যালট বাতিল হতে পারে।
ধাপ ৯: প্রতীকের ঘরে সিল মারুন
আপনার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ঘরের মাঝখানে সিল মারুন। সিল মারার সময় খেয়াল রাখবেন যেন অন্য কোনো ঘরে কালি না লাগে।
ধাপ ১০: ব্যালট পেপার ভাঁজ করুন
ব্যালট পেপারটি সিল দেওয়ার পর প্রতীকের ঘরের মাঝামাঝি লম্বা ভাঁজ দিন, এরপর প্রয়োজনমতো ভাঁজ করুন যাতে ভোট গোপন থাকে।
- প্রথমে সিল দেওয়া অংশের মাঝামাঝি লম্বালম্বি ভাঁজ দিন।
- এরপর নিয়ম অনুযায়ী ব্যালটটি ভাঁজ করুন, যাতে কালি ছড়িয়ে না পড়ে।
- সঠিকভাবে ভাঁজ করলে আপনার ভোট বৈধ থাকবে।
ধাপ ১১: ব্যালট বাক্সে জমা দিন
এরপর ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার সামনে রাখা ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার জমা দিন।
- ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার সামনে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে দুইটি ব্যালট পেপার ফেলুন।
- ভোট প্রদান সম্পন্ন হলে যত দ্রুত সম্ভব ভোটকক্ষ ও ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করুন, যাতে অন্য ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।
শেষ কথা
ভোট দেওয়া শুধু একটি অধিকার নয়, এটি নাগরিক দায়িত্বও। আপনার একটি ভোট দেশের নেতৃত্ব নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই সচেতন হোন, নিয়ম মেনে ভোট দিন এবং যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিন।
মনে রাখবেন—আপনার ভোট, আপনার সিদ্ধান্ত।



