জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পর অবশ্যই আবেদন কপিটি প্রিন্ট করতে হবে এটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। নতুন জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ও মৃত্যু নিবন্ধন সব ধরনের আবেদনপত্র প্রিন্ট করার নিয়ম একই
আবেদন সাবমিট করার পর আপনার মোবাইলে একটি আবেদন নম্বর এসএমএস আকারে পাঠানো হবে অথবা আপনার মোবাইল ডেস্কটপ স্ক্রিনে দেখানো হবে এই আবেদন নম্বর ব্যবহার করেই আপনি আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করতে পারবেন
জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট নিতে যা লাগবে
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্রের প্রিন্ট কপি নিতে আপনার নিচের দুটি তথ্য প্রয়োজন হবে
১. আবেদনের Application ID
- আবেদন করার পর আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএসে পাঠানো হয়।
- অথবা আবেদন সম্পন্ন করার পর কম্পিউটার/মোবাইল স্ক্রিনে দেখানো হয়।
২. আবেদনকারীর জন্ম তারিখ
এই দুইটি তথ্য ছাড়া জন্ম নিবন্ধন আবেদন খুঁজে বের করা সম্ভব নয়।
BDRIS আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম
- প্রথমে www bdris gov bd ওয়েবসাইটে যান
- আবেদন প্রিন্ট করার পেজে প্রবেশ করুন
- আবেদনের ধরন নির্বাচন করুন নতুন জন্ম নিবন্ধন সংশোধন মৃত্যু নিবন্ধন
- আবেদন নম্বর লিখুন
- জন্ম তারিখ দিন
- আবেদন প্রিন্ট করুন
জন্ম নিবন্ধন আবেদনপত্র প্রিন্ট করার ধাপসমূহ
জন্ম নিবন্ধনের বিভিন্ন আবেদনের পর অনেক সময় পুনরায় আবেদন পত্র প্রিন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হয়। অ্যাপ্লিকেশন আইডি ব্যবহার করে খুব সহজেই আবার জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করতে পারবেন।
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

ভিজিট করুন: bdris.gov.bd
অথবা সরাসরি যান:
bdris.gov.bd/application/print
ধাপ ২: আবেদনপত্রের ধরণ নির্বাচন করুন
মেনু থেকে যান:
জন্ম নিবন্ধন > জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট

এখানে আপনার আবেদনের ধরণ নির্বাচন করুন।
জন্ম নিবন্ধন আবেদন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে
- নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন
- জন্ম তথ্য সংশোধনের আবেদন
- জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন
- জন্ম নিবন্ধন প্রতিলিপির আবেদন
- মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য আবেদন
- মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন
- মৃত্যু নিবন্ধন বাতিলের আবেদন
- মৃত্যু নিবন্ধন প্রতিলিপির আবেদন
উপরের যেকোনো আবেদনের প্রিন্ট কপি যে কোনো সময় নেওয়া যাবে।
ধাপ ৩: তথ্য প্রদান করুন
আবেদনের ধরন নির্বাচন করুন নতুন জন্ম নিবন্ধন সংশোধন বা মৃত্যু নিবন্ধনে আপনার প্রয়োজন অনুজায়ী অপশনঠি নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩: তথ্য প্রদান করুন

ধাপ ৪: জন্ম তারিখ নির্বাচন করুন
আবেদনকারীর জন্ম তারিখ নির্বাচন করুন

ধাপ ৫: প্রিন্ট ও ডাউনলোড

- “Print” বাটনে ক্লিক করুন
- জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্রের PDF ফাইল পাবেন
- PDF ফাইলটি Save করুন
ধাপ 6: A4 সাইজে প্রিন্ট করুন
PDF ফাইলটি A4 সাইজের কাগজে প্রিন্ট করুন।
প্রিন্ট করার সময় অবশ্যই Print Window থেকে More Settings অপশনে গিয়ে Headers and Footers অপশনটি চালু আছে কিনা নিশ্চিত করুন। যদি বন্ধ থাকে, তাহলে টিক চিহ্ন দিয়ে চালু করুন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
Application ID ছাড়া জন্ম নিবন্ধনের আবেদন খুঁজে বের করা যাবে না। তাই প্রিন্ট কপিতে Application ID অবশ্যই থাকতে হবে।
জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত আরো তথ্য
ন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সকল তথ্য একসাথে পেতে দেখুন – জন্ম নিবন্ধন
এছাড়াও নিচের বিষয়গুলো জানতে পারেন
- নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম
- জন্ম নিবন্ধন যাচাই
- জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম
- জন্ম নিবন্ধন হারিয়ে গেলে যা করবেন
- জন্ম নিবন্ধন ১৬ ডিজিট থেকে ১৭ ডিজিট করার নিয়ম
- জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করার নিয়ম
- হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম
ইউনিয়ন পরিষদে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করছি।
অনেকেই জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পর আবেদন কপিটি ভালোভাবে যাচাই করেন না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, আবেদন করার পর প্রিন্ট কপির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আবেদনপত্র প্রিন্ট করলে তাতে দেওয়া সকল তথ্য এক নজরে দেখা যায় এবং কোথাও ভুল হয়েছে কিনা তা সহজেই বোঝা যায়।
আমরা ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করার সময় বিভিন্ন আবেদন যাচাই-বাছাই করি। তখন অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়
- নামের বানানে ভুল
- জন্ম তারিখে ভুল
- পিতামাতার তথ্যের ভুল
- ডকুমেন্টের সাথে তথ্যের অমিল
এমন ভুল থাকলে আবেদনটি রিজেক্ট হয়ে যায় এবং আবেদনকারীকে পুনরায় আবেদন করতে হয়।
তাই জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পর অবশ্যই আবেদন পত্রটি প্রিন্ট করে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের সাথে মিলিয়ে নিন। যদি কোনো অংশে ভুল থাকে, তাহলে সময় নষ্ট না করে আবেদনটি সংশোধন বা প্রয়োজন হলে বাতিল করে পুনরায় সঠিকভাবে আবেদন করুন।
মনে রাখবেন, আবেদন করার আগে এবং আবেদন করার পরে—উভয় সময়ই আবেদনপত্র ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। এতে আপনার সময় বাঁচবে এবং আবেদন রিজেক্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
আবেদন কপি প্রিন্ট করার পর করণীয়
জন্ম নিবন্ধন আবেদন কপি প্রিন্ট করার পর আপনার কাজ এখানেই শেষ নয়। প্রিন্ট কপিটি সঠিকভাবে যাচাই করার পর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে নির্ধারিত অফিসে জমা দিতে হবে।
যদি আপনি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন করে থাকেন, তাহলে আপনার সঠিক তথ্য প্রমাণ করে এমন ডকুমেন্ট সংযুক্ত করতে হবে। যেমন
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- শিক্ষাগত সনদপত্র (সার্টিফিকেট)
- প্রয়োজনীয় অন্যান্য ডকুমেন্ট
প্রিন্ট করা আবেদন কপির সাথে এসব ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে আপনার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ অথবা যে অফিসে আবেদন করেছেন, সেখানে জমা দিন। আবেদন কপি জমা দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন—জন্ম নিবন্ধনের সব কাজ নিজে নিজে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
জন্ম নিবন্ধন নতুন করে করা হোক অথবা সংশোধন করা হোক—উভয় ক্ষেত্রেই আপনাকে সংশ্লিষ্ট অফিসে যেতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
শেষ কথা
জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করা খুবই সহজ একটি প্রক্রিয়া, যদি আপনার কাছে Application ID এবং জন্ম তারিখ থাকে। তাই আবেদন করার সময় অ্যাপ্লিকেশন আইডি অবশ্যই সংরক্ষণ করুন এবং প্রয়োজন হলে উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করে যেকোনো সময় পুনরায় প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করুন।
সঠিক তথ্য অনুসরণ করলে পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মিনিটেই সম্পন্ন করা সম্ভব।
FAQ
জন্ম নিবন্ধন আবেদন কপি প্রিন্ট করার পর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে নির্দিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা যে অফিসে আবেদন করেছেন সেখানে জমা দিতে হবে। আবেদন কপি জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অফিস যাচাই-বাছাই করে সংশোধন বা নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করে।
আবেদন কপি জমা দেওয়ার পর সাধারণত অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই জন্ম নিবন্ধন সংশোধন বা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হয়। সময় নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট অফিসের কার্যক্রমের উপর।
জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বয়স ও আবেদনের ধরন অনুযায়ী ফি নির্ধারিত হয়।
জন্মের ০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে ফ্রি।
৪৫ দিনের বেশি বয়সে নিবন্ধন করলে সরকারি ফি দিতে হয়।
সরকারি ফি সাধারণত ৫০ টাকা।
তবে বিভিন্ন অফিসে টাকার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত—
নাম সংশোধন: ৫০ টাকা
বয়স সংশোধন: ১০০ টাকা
এছাড়াও কিছু অফিসে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়ে থাকে।
যদি আবেদন করার সময় কোনো ভুল হয়ে যায়, তাহলে নির্দিষ্ট অফিসে গিয়ে আপনার আবেদন নম্বর প্রদান করুন। আবেদনটি রিজেক্ট করে পুনরায় সঠিক তথ্য দিয়ে নতুন করে আবেদন করতে হবে।





আর্টিকেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে